বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪

ছাত্রলীগ নেতার সহযোগিতায় উঠে দাঁড়াতে পারছেন মিনা পাগলি

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২১-০৩-১০ ০০:৪৪:৫৬  

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) দ্বিতীয় গেট দিয়ে প্রবেশের পর হাতের বাম পাশে একটি ঝুপড়ি ঘর। সেই ঘরেই বসবাস মিনার। তাকে স্থানীয়রা মিনা পাগলি বলেই ডাকেন।

২০১৮ সাল থেকে ভিক্ষা করে গেটের পাশেই থাকতেন তিনি। হঠাৎ পা ভেঙে যায় তার। ফলে উঠে দাঁড়াতে পারতেন না। গত এক বছর সেখানেই শুয়ে-বসে দিন পার করতে হয়েছে তাকে। এতে তার শরীরে পানি চলে আসে। হাসপাতালেও নেয়া হয়েছিল দু-তিনবার। কিছুটা সুস্থতা বোধ করলে সেখান থেকেও পালাতেন তিনি।

মিনা পাগলির এমন অবস্থায় সাহায্যের হাত বাড়ান মাভাবিপ্রবির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল। অসুস্থ অবস্থা থেকে অদ্যাবধি তিনবেলা খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মানিকের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন-অর-রশিদ রাসেলের সহযোগিতায় নিয়মিত চেকআপে শরীরে পানি কমতে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা শুরু করেন মিনা পাগলি। এর মধ্যেই মানিকের কাছে একটি ঘর আবদার করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় একটি চৌকি জোগাড় করে ঝুপড়ি ঘর তুলে থাকার ব্যবস্থা করেন মানিক। বর্তমানে মিনা পাগলি সুস্থ ও ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন।

অসুস্থ থাকাকালে অপরিষ্কার থাকায় কেউ এগিয়ে যায়নি পাগলির কাছে, এখন অনেকেই বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। পাগলি শুধু এতটুকুই বলতে পারেন, তার বাড়ি নোয়াখালী, দুই ভাই তাকে বিক্রি করে দিয়েছিল নিষিদ্ধপল্লীতে।

মানিক শীল বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজে লিপ্ত আছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করা একজন ছাত্রলীগকর্মীও আমি। তার আদর্শে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেয়াও আমার দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি মিনা আপাকে সহযোগিতা করার। ভারসাম্যহীন হলেও তিনি মানুষ। তার বাঁচার অধিকার আছে। এ কাজে আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈকত ভাই, আল-আমিন, রাফিউল, আকিব, হৃদয়, হামিদুল, শাফিসহ আরও অনেকে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাভাবিপ্রবির ছাত্র কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র পরিচালক প্রফেসর ড. এসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এটি বিশেষ একটি মানবিক গুণাবলি। এ ধরনের কাজে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত। মানিক শীলের পাশাপাশি আমরাও ব্যক্তিগতভাবে মিনাকে সহযোগিতা করব।’


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা